সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি অপহরণ মামলায় সাবেক এএসপি মোখলেছুর গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক | FirstBarta
দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার আলোচিত সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকে অপহরণ, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোখলেছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বহুল আলোচিত এ ঘটনায় নতুন এই অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই ঘটনায় তদন্তের ধারাবাহিকতায় মোখলেছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।
যে ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম
২০১২ সালের ৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে ঢাকায় আসেন সুখরঞ্জন বালি। তিনি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল এলাকায় পৌঁছানোর পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে বিষয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সুখরঞ্জন বালির দাবি, তাকে সেদিন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তুলে নিয়ে যান। এরপর দীর্ঘ সময় অবৈধভাবে আটক রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে কয়েক বছর কারাবন্দি থাকতে হয়।
কী অভিযোগ করেছেন সুখরঞ্জন বালি?
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া অভিযোগে সুখরঞ্জন বালি বলেন, প্রথমদিকে তদন্ত কর্মকর্তারা তাকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে চাপ দেন। কিন্তু তিনি দাবি করেন, তিনি যেটিকে সত্য মনে করেছেন সেটিই আদালতে বলতে চেয়েছিলেন। এরপর থেকেই তিনি নানা ধরনের চাপ, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে আসার দিন তাকে আইনজীবীদের উপস্থিতি থেকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তার পরিবার দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পায়নি। অভিযোগে তিনি বলেন, ওই ঘটনার পর তাকে গুম করে রাখা হয় এবং পরে ভারতে পাঠানো হয়।
কার বিরুদ্ধে অভিযোগ?
সুখরঞ্জন বালির দাখিল করা অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ তৎকালীন বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের একাধিক সাবেক কর্মকর্তা এবং ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনাধীন রয়েছে।
মোখলেছুর রহমানের গ্রেপ্তার
এই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক এএসপি মোখলেছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আদালতে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়।
তদন্ত চলমান
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বছর পর বহুল আলোচিত এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া তদন্তের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর নির্ভর করবে। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হবে।
আলোচনায় কেন এই মামলা?
সুখরঞ্জন বালির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ২০১২ সাল থেকেই দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার বিষয় ছিল। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংবাদমাধ্যমও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সাম্প্রতিক তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় সেই পুরোনো আলোচিত মামলাটি আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে।
দ্রষ্টব্য
এই মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত অপহরণ, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগগুলো অভিযোগকারী পক্ষের দাবি এবং সেগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের রায়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।













