কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো
স্পোর্টস ডেস্ক | FirstBarta
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। রাউন্ড অব ১৬-এ কানাডার বিপক্ষে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
ম্যাচজুড়ে বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল মরক্কো। তাদের সংগঠিত রক্ষণভাগ ও দ্রুতগতির আক্রমণের সামনে কানাডা কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। ফলে শেষ পর্যন্ত একতরফা জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মরক্কো।
প্রথমার্ধ থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে প্রতিপক্ষের রক্ষণে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে তারা। কানাডা কিছু পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেও সেগুলো খুব একটা কার্যকর হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে মরক্কোর আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দলটি দ্রুত ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়। একের পর এক সুশৃঙ্খল আক্রমণ কানাডার রক্ষণকে ভেঙে দেয়। বিশেষ করে আজ্জেদিন ওউনাহির নৈপুণ্য ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে যোগ করা সময়ে সুফিয়ান রাহিমি আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন। এই গোলের পর কানাডার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়।
ম্যাচে শুধু গোল নয়, রক্ষণেও ছিল মরক্কোর অসাধারণ দৃঢ়তা। গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডাররা কানাডার প্রতিটি আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেন। ফলে পুরো ম্যাচে কানাডা গোলের দেখা পায়নি।
মধ্যমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলেছে মরক্কো। তাদের পাসিং, গতি এবং কৌশলগত পরিকল্পনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে নতুন ইতিহাস গড়ল মরক্কো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধারাবাহিক উন্নতির যে প্রমাণ তারা দিয়ে আসছে, এই ম্যাচও তারই আরেকটি উদাহরণ।
বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর মধ্যে মরক্কোর ধারাবাহিক সাফল্য ফুটবলবিশ্বে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শক্তিশালী ইউরোপীয় ও আমেরিকান দলগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করার সক্ষমতা তারা আবারও দেখিয়ে দিল।
কানাডার জন্য অবশ্য এই হার হতাশার। পুরো টুর্নামেন্টে লড়াকু মানসিকতা দেখালেও নকআউট পর্বে মরক্কোর সংগঠিত ফুটবলের সামনে তারা টিকতে পারেনি। সুযোগ তৈরি করেও শেষ মুহূর্তে কার্যকর ফিনিশিংয়ের অভাবে ম্যাচে ফিরতে ব্যর্থ হয় কানাডা।
এখন কোয়ার্টার ফাইনালে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় মরক্কো। তবে বর্তমান ছন্দ ধরে রাখতে পারলে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে দলটি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে মরক্কোর জয়ের মূল কারণ ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় খেলা, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা। অন্যদিকে কানাডা মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, যার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগায় মরক্কো।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমন দাপুটে জয় মরক্কোর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে। সমর্থকরাও এখন স্বপ্ন দেখছেন আরও এক ধাপ এগিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার।
বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, মরক্কো ততই নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে প্রমাণ করছে। শেষ আটে তাদের পারফরম্যান্স এখন ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।













