পাবনায় এনসিপির বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক | FirstBarta
পাবনায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদে বিএনপি-সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য ছিল ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও রাজনৈতিকভাবে উসকানিমূলক। তারা ওই বক্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে শহরের থানা রোড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, আগের দিন পাবনা ও নাটোরে অনুষ্ঠিত পৃথক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এনসিপির দুই নেতা পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসত্য তথ্য উপস্থাপন গ্রহণযোগ্য নয়।
বক্তারা আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্ত ও সহনশীল রাখতে দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রয়োজন। কোনো ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য ভবিষ্যতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত।
এর আগে একই দাবিতে শনিবার সকালে জেলা জাসাসের উদ্যোগে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসমর্থিত অভিযোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাও রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব।
এদিকে, প্রতিবাদ সমাবেশে কিছু বক্তা পাবনায় এনসিপিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করার ঘোষণা দেন। তবে এ ধরনের ঘোষণা কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নয়; এটি প্রতিবাদকারীদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশের অংশ হিসেবে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত সংলাপ, তথ্যভিত্তিক বক্তব্য এবং গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখা।
এ বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।
পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।













