বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি
জর্ডানের বিপক্ষে বদলি নেমে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল; বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার আর্জেন্টাইন অধিনায়ক
স্পোর্টস ডেস্ক | FirstBarta.com
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে আরেকটি অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে তিনি পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
বিশ্বকাপে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ড নিজের নামে করে নেওয়া মেসি এবার এমন একটি কীর্তি গড়লেন, যা এর আগে কোনো খেলোয়াড়ের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, গোল করার অসাধারণ দক্ষতা এবং বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার ক্ষমতার কারণে তিনি আবারও বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন।
ম্যাচটিতে শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন না মেসি। কোচ তাকে বিশ্রামে রেখে একাদশ সাজালেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয়। মাঠে নামার পর থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণে নতুন গতি আসে। ম্যাচের শেষভাগে একটি ফ্রি-কিকের সুযোগ পেয়ে নিজের স্বভাবসুলভ নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান তিনি। তার সেই গোলে আর্জেন্টিনা ম্যাচে আরও এগিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত করে।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৯। কয়েক দিন আগেই তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছিলেন। জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে সেই রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মেসির এই অনন্য রেকর্ডের যাত্রা শুরু হয় ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া এবং ফ্রান্সের বিপক্ষেও গোল করেন তিনি। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল এবং সর্বশেষ জর্ডানের বিপক্ষে একটি গোল করে টানা সাত ম্যাচে গোলের বিরল কীর্তি গড়েন।
এর আগে বিশ্বকাপে টানা ছয় ম্যাচে গোল করার রেকর্ড ছিল ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জাইরজিনহোর দখলে। বহু বছর ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড এবার ভেঙে এককভাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্থানে উঠে এলেন লিওনেল মেসি।
শুধু গোল করাই নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে তার উপস্থিতি আর্জেন্টিনার খেলায় আত্মবিশ্বাস এনে দেয়। মাঠে নামার পর আক্রমণভাগ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব দলকে আরও সংগঠিত করে তোলে।
৩৯ বছর বয়সেও মেসির এমন পারফরম্যান্স ফুটবলবিশ্বকে বিস্মিত করছে। যেখানে অনেক ফুটবলার এই বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেন, সেখানে মেসি এখনও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার ফিটনেস, অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তরুণ ফুটবলারদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
আর্জেন্টিনার এই জয়ের ফলে দলটি গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে তাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। দলের কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকরাও মেসির পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মেসির নতুন এই রেকর্ড ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ভক্ত তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাবেক ও বর্তমান অনেক ফুটবলারও তার এই কীর্তির প্রশংসা করেছেন।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে গোল করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তাই টানা সাত ম্যাচে গোল করার এই রেকর্ডকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলা লিওনেল মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, ফুটবল ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন এই রেকর্ড তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যোগ করল আরও একটি গৌরবময় অধ্যায়।
সূত্র: Reuters (যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত)।













