টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দিনে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন মির্জাপুর, ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সড়ক অবরোধ
দীর্ঘদিনের তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত; নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ
স্টাফ রিপোর্টার | FirstBarta.com
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় অতিষ্ঠ হয়ে শত শত মানুষ ঢাকা–টাঙ্গাইল–যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করেন।
রোববার (২৮ জুন) সকালে উপজেলার জামুর্কি এলাকায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চরম লোডশেডিং চলছে। অনেক এলাকায় দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। আগামী ১ জুলাই থেকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধ্যার পর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারছে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীরা জামুর্কি পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ও অফিস ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে মহাসড়কে যান চলাচল আবারও স্বাভাবিক হয়।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। মির্জাপুরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। পাশাপাশি গোড়াই শিল্পাঞ্চলের কারণে এলাকাটিতে বিদ্যুতের চাহিদাও তুলনামূলক বেশি। সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন অনেক গ্রাহক। তাদের দাবি, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।













