ইরানের বিদায়ের পর ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা, ভিএআর সিদ্ধান্তে বৈষম্যের অভিযোগ
স্পোর্টস ডেস্ক | FirstBarta.com
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরানের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হওয়ার পর ফিফা এবং সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাটি করেছেন ইরানি-আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মামলায় ফিফার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকেও বিবাদী করা হয়েছে।
কী অভিযোগ করা হয়েছে?
মামলার অন্যতম প্রধান অভিযোগ, গ্রুপ পর্বে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের ডিফেন্ডার শোজায়ে খলিলজাদেহ শেষ মুহূর্তে যে গোলটি করেছিলেন, সেটি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) অফসাইডের সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়।
আফরাসিয়াবির দাবি, ওই গোলটি বৈধ হলে ইরান ম্যাচে জয় পেত এবং সরাসরি নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ অর্জন করত। তার অভিযোগ, ভিএআরের সিদ্ধান্তটি ছিল অন্যায্য এবং ইরানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিফলন।
‘মানসিক ক্ষতির’ অভিযোগ
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু খেলোয়াড়রাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত লাখো ইরানি সমর্থকও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে ইরানি ও ইরানি-আমেরিকান ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের জাতীয় দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হয়েছে বলে মনে করছেন।
আফরাসিয়াবির ভাষ্য, খেলাধুলায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা ফিফার অন্যতম দায়িত্ব হলেও ইরানের ক্ষেত্রে সেই মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।
শুধু ভিএআর নয়, আরও অভিযোগ
মামলায় শুধু ম্যাচের সিদ্ধান্ত নয়, বিশ্বকাপ চলাকালে ইরান দলের সঙ্গে হওয়া বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী—
- দলকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকভাবে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
- অনুশীলন ক্যাম্প মেক্সিকোতে সরিয়ে নিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
- দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্যের ভিসা জটিলতা তৈরি হয়।
- সমর্থকদের টিকিট বরাদ্দ নিয়েও নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।
মামলাকারীর দাবি, এসব কারণে ইরান অন্য দলগুলোর মতো সমান সুযোগ পায়নি এবং ফিফার উচিত ছিল বিষয়গুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া।
কে এই লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি?
৬৮ বছর বয়সী লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অতীতে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা নিয়েও কাজ করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ রয়েছে।
ক্ষতিপূরণের অর্থ কোথায় ব্যয় হবে?
মামলায় জয়ী হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ইরানের তরুণদের ক্রীড়া উন্নয়ন, ফুটবল অবকাঠামো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আফরাসিয়াবি।
ফিফার প্রতিক্রিয়া
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। ফলে মামলার অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংস্থাটির অবস্থান এখনো জানা যায়নি।
আগেও আইনি লড়াই
উল্লেখ্য, এটি ফিফার বিরুদ্ধে ইরানি পক্ষের প্রথম আইনি পদক্ষেপ নয়। এর আগে বিশ্বকাপ স্টেডিয়ামে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব “লায়ন অ্যান্ড সান” পতাকা বহনের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আদালতে মামলা হয়েছিল। তবে সেই মামলায় আদালত ফিফার নীতিমালার পক্ষে রায় দিয়েছিল।
এখনও কোনো চূড়ান্ত রায় হয়নি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিফার বিরুদ্ধে ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা দায়ের করা হলেও এটি এখনো বিচারাধীন। আদালত কোনো চূড়ান্ত রায় দেয়নি এবং ফিফার বিরুদ্ধে অভিযোগও এখনো প্রমাণিত হয়নি। তাই মামলার ফলাফল জানতে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে নজর রাখতে হবে।













