ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, বাংলাদেশে কি সে হারে মন্দির ভাঙা হয়?—প্রশ্ন চিফ হুইপের
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়; সংসদে বাজেট আলোচনায় বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার দাবিও করেন নুরুল ইসলাম মনি
জাতীয় ডেস্ক | FirstBarta
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ভারতে যেভাবে মসজিদ ভাঙার ঘটনা ঘটে, বাংলাদেশে একই হারে মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটে কি না—এ প্রশ্নটিও আলোচনায় বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রতিবেশী দেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলেও মন্তব্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত বাজেট-পরবর্তী সংসদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশ সরকার চায় না দেশের ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক। একইভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপও গ্রহণযোগ্য নয়।
তার ভাষায়, “বাংলাদেশের মাটি প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক, সেটা আমরা চাই না। একই সঙ্গে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীরা নাক গলাক, সেটাও চাই না।”
এ সময় তিনি বলেন, ভারতে যেভাবে মসজিদ ভাঙার ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়, বাংলাদেশে মন্দির ভাঙার ঘটনাকে একই প্রেক্ষাপটে তুলনা করে দেখা উচিত কি না—সে বিষয়টিও বিবেচনায় আনা দরকার।
বাজেট প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, এবারের বাজেট নিয়ে বিভিন্ন মহলে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। কেউ বাজেটকে ইতিবাচক বলেছেন, আবার কেউ বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা করেছেন।
তিনি দাবি করেন, এটি তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত প্রথম বাজেট এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিরোধী দল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাজেট আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
চিফ হুইপের ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদীয় নিয়মে বিরোধী দলের জন্য ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে তাদের আরও বেশি সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিরোধী দলের সদস্যরা প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য রাখার সুযোগ পান এবং অনেক সদস্য ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত বক্তব্য দেন। বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, সরকার বিরোধী দলের সব বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছে এবং তাদের মতামত প্রকাশের পূর্ণ সুযোগ দিয়েছে।
নুরুল ইসলাম মনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদীয় ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধী দলের নেতা নিজেই স্পিকারের কাছে গিলোটিন প্রস্তাব আনার অনুরোধ করেন। পরে বিরোধী দল তাদের ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেয়, যা থেকে তিনি মনে করেন বাজেট নিয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে বিরোধী দলও সন্তুষ্ট ছিল।
সংসদ সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বাজেট-পরবর্তী সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। চিফ হুইপের বক্তব্যের পর বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।













